মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলের শুরুতে ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ ঘোষণা করেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক লক্ষ্য ছিল চীন, তখন থেকে দেশটির ওপর দফায় দফায় শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। ওই সময়ের পর অক্টোবরে প্রথমবারের মতো কমেছে চীন থেকে রফতানি। চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছালেও চীনা রফতানিতে এ পতনের পেছনে গত কয়েক মাসের বাণিজ্য উত্তেজনাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। খবর এফটি।
চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতির রফতানি অক্টোবরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডলারের হিসেবে ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর আগে বার্ষিক ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে শেষবার চীনের রফতানি কমে।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি শুল্ক শতভাগ ছাড়িয়ে গেলে শক্তিশালী রফতানি প্রবৃদ্ধি দেখে আসছিল বেইজিং। গত সেপ্টেম্বরে চীন থেকে রফতানি বাড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অক্টোবরে রফতানি কমলেও রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া বিশ্লেষকরা ওই মাসে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিলেন।
চীনের অর্থনীতি মূলত রফতানি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। চার বছর ধরে চলমান আবাসন বাজারের ধীরগতি ও দেশীয় ভোক্তাদের দুর্বল আস্থার প্রভাব কমাতে সহায়ক দেশটির রফতানি খাত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকে বসেন। তখন তারা এক বছরের জন্য বাণিজ্যবিবাদ স্থগিত রাখতে সম্মত হন। এর আগে দুষ্প্রাপ্য খনিজের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা লাভ করে।
এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের ওপর বড় ধরনের আমদানি শুল্ক আরোপ করে আসছে। এমন কিছু ঘটার আশঙ্কায় আগেই মার্কিন আমদানিকারকরা চীনে ক্রয়াদেশ বাড়িয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বড় আকারে হ্রাস পেয়েছে।
এতদিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে রফতানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছিল চীন। তথ্য বলছে, গত মাসে অঞ্চল দুটিতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ধীর। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানি বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দুটি ক্ষেত্রেই ফেব্রুয়ারির পর এটি ছিল সবচেয়ে কম রফতানি প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেছে ২৫ শতাংশ।
চীনে গত মাসে আমদানি বেড়েছে ১ শতাংশ, যা বিশ্লেষকদের ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এর আগে সেপ্টেম্বরে চীনে আমদানি বেড়েছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
ম্যাককোয়ারি ব্যাংকের চীনবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ল্যারি হু বলেন, ‘বাণিজ্য তথ্য সাধারণত ওঠানামা করে। তবে চলতি বছর রফতানি এখন পর্যন্ত খুব শক্তিশালী রয়েছে এবং এটাই সবচেয়ে বড় চমক। আমি মনে করি, আগামী ৬-১২ মাসও রফতানি শক্তিশালী থাকবে।’